
রাজধানী: রাজধানীর মোহাম্মদপুর-বসিলা রোডের ডিভাইডার নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে যথাযথ মান বজায় না রাখায় জনমনে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কাজ শেষ হতে না হতেই ডিভাইডারের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল ও ভাঙন দেখা দিচ্ছে, যা কাজের গুণমানকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, দৈনিক দিনবদলের জাতীয় কাগজ ‘আমাদের মাতৃভূমি’ পত্রিকার প্রতিনিধির কাছে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, নির্মাণকাজে রড ও সিমেন্টের ব্যবহার অত্যন্ত নগণ্য। ডিভাইডারের অনেক স্থানে বালুর পরিমাণ বেশি হওয়ায় হাত দিয়েই পলেস্তারা তুলে ফেলা যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, যথাযথ তদারকির অভাবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে।
তদন্তকালে সাইটে কর্মরত এক ব্যক্তির সাথে কথা হয়, যিনি নিজেকে সাইড ইঞ্জিনিয়ার “শুভ” বলে পরিচয় দেন। তবে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং প্রকল্পের বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি রহস্যজনক আচরণ শুরু করেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা বা মালিকের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা প্রকাশ করতে সাফ অস্বীকৃতি জানান। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর দিতেও তিনি রাজি হননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেরা খুঁজে নিতে পারেন, আমি কোনো ফোন নম্বর দিতে পারব না। আমি যদি তথ্য দিই, তবে আমার চাকরি চলে যাবে।” তার এই অপেশাদার ও রহস্যময় বক্তব্যে এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে যে দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই নির্মাণকাজে। তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে। তারা মনে করেন, বর্তমানে দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসন ও অবকাঠামো খাতে স্বচ্ছতা আসার কথা থাকলেও কিছু অসাধু চক্র এখনো সক্রিয়। জনগণের করের টাকায় নির্মিত এই ডিভাইডার যদি এখনই ভেঙে পড়ে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে সড়ক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
নির্মাণকাজের সাথে যুক্ত কয়েকজন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও স্থানীয় শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢালাইয়ের মিশ্রণে সিমেন্টের চেয়ে বালুর পরিমাণ অনেক বেশি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত রড ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এই অভিযোগের স্বপক্ষে স্থানীয়রা কিছু ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য প্রমাণ সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এলাকাবাসী বর্তমানে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এই দুর্নীতির বিচার করা হয়। তাদের মতে, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্রের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই কাজ পুনরায় মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
উত্তাল এলাকাবাসীর একটাই দাবি—পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যেন দ্রুত এই সাইটে পরিদর্শন করে এবং প্রকৌশলী ‘শুভ’ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ মতিঝিল, সি/এ আর এস ভবন, ৩য় তলা, স্যুট-৪০২, ঢাকা-১০০০ / Office : Dhaka,Bngkadesh. Mobile : 01819885817, Email : digontodhara@gmail.com