
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর তথা ঢাকা-৭ আসনের রাজনীতির এক পরিচিত নাম হাজী মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হামলা, মামলা ও কারাবরণকে সঙ্গী করে পথ চলা এই নেতা এবার ৫৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে জনগণের সেবা করার ঘোষণা দিয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় কামরাঙ্গীরচরকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হাজী দেলোয়ার হোসেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, উন্নয়ন ভাবনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যে কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়নের রূপকার হিসেবে প্রয়াত জননেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন এবং বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব হামিদুর রহমান হামিদের নেতৃত্বে এলাকা পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আস্থা ও রাজপথের লড়াই
হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে প্রতিটি আন্দোলনে আমি রাজপথে থেকেছি। বর্তমানে আমাদের রাহবার তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা রাজপথের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন থেকে শুরু করে ২০০৮ পরবর্তী দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে আমি অসংখ্যবার কারাবরণ করেছি। ২০০১ সালের নির্বাচনে নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ভাইয়ের বিজয়ে কামরাঙ্গীরচরে যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল, আমি ছিলাম সেই বিজয়ের সম্মুখ সারির সৈনিক।”
কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এলাকার যা কিছু উন্নয়ন—রাস্তাঘাট, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—তার সিংহভাগই হয়েছে পিন্টু ভাইয়ের হাত ধরে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি তার সাথে থেকে প্রতিটি কাজে সহযোগিতা করেছি। আজকের যে বেড়িবাঁধ, তার অ্যালাইনমেন্ট আমি নিজে ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে থেকে ঠিক করে দিয়েছি। পিন্টু ভাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আশ্রাফাবাদ রোড প্রশস্ত করার। আমি সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। হাজী আব্দুল আউয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি এবং ‘ধূমকেতু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের’ মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজ করেছি।” তিনি আরও বলেন, “পিন্টু ভাই ছুটায়ে এমন একটি ব্রিজ করতে চেয়েছিলেন যা হবে কামরাঙ্গীরচরের সিগনেচার, অনেকটা হাওড়া ব্রিজের মতো। কিন্তু ২০০৬ সালের পর সেই প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। বিগত ১৭ বছরে মেয়র খোকন, তাপস বা কামরুল সাহেবরা কামরাঙ্গীরচরের কোনো উন্নয়ন করেননি, বরং মানুষের ওপর জুলুম চালিয়েছেন।”
বিগত আওয়ামী শাসনের ভয়াবহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার দুই দিনের মাথায় র্যাব-১০ আমাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। দিনের পর দিন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি ছিলাম। ২০২২ সালে আমার মেয়ের বিয়ের কার্ড বিতরণের সময় পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। জেলখানায় আমাকে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে গার্মেন্টস সেকশনে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আমাকে দুই মামলায় সাড়ে চার বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো জুলুম আমাকে শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।”
সাবেক মেয়র তাপসের ‘সিবিডি’ প্রকল্পের নামে কামরাঙ্গীরচরের মানুষকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “তাপস যখন ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টের নামে কামরাঙ্গীরচরের মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া করতে চেয়েছিল, তখন আমি ‘কামরাঙ্গীরচর জন্মভূমি রক্ষা কমিটি’ গঠন করে প্রতিবাদ করেছি। আমার জন্ম, আমার বাবার জন্ম এই মাটিতে। এই মাটি আমরা কাউকে দখল করতে দেব না।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-৭ আসনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব হামিদুর রহমান হামিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “হামিদ ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে আমার মতো অভিজ্ঞ মানুষের পাশে থাকা জরুরি। আমি যদি ৫৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হই, তবে আমি হামিদ ভাইকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারব। কোথায় গ্যাস সংকট, কোথায় রাস্তা সরু, কোথায় মাদক নির্মূল করতে হবে—সব তথ্য উনার কাছে তুলে ধরে কামরাঙ্গীরচরকে একটি মডেল এলাকায় রূপান্তর করতে পারব।”
আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “কাউন্সিলর হওয়া আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, এটি এলাকার মুরুব্বি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি। জনগণ আমাকে তাদের সেবক হিসেবে দেখতে চায়। আমি ৫৭ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি চিনি। মাদক ও যানজট মুক্ত ৫৭ নং ওয়ার্ড গড়তে আমি বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ব্রিজের গোড়ার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে আমি দ্রুত পদক্ষেপ নেব।”
পরিশেষে হাজী দেলোয়ার হোসেন দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নিরপেক্ষ নির্বাচনে কামরাঙ্গীরচরের মানুষ তাদের যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবেন এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে সফল করবেন।