
দীর্ঘ ১৬ বছর। সময়টা ছোট নয়। গত দেড় দশক ধরে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটানো কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবিরের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো কেড়ে নিয়েছে কারাবাস। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক জীবন্ত সাক্ষী হয়ে তিনি এখন রোগশয্যায়। কারান্তরালে থাকা এই প্রবীণ ও ত্যাগী নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এবং তার প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আজ ১৯শে মার্চ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছুটে যান বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং বর্তমান টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন মো. হুমায়ুন কবির। দীর্ঘ এই কারাবাস এবং বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তার শরীর এখন ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এমন দুঃসময়ে দল ও কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আব্দুস সালাম পিন্টু জেলগেটে উপস্থিত হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতিক্রমে অসুস্থ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই প্রবীণ নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আনা চিকিৎসার নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।
উল্লেখ্য যে, হুমায়ুন কবিরের এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও কারাজীবনের প্রতিটি ধাপে আব্দুস সালাম পিন্টু ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি কেবল একজন সহকর্মী হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক হিসেবে শুরু থেকেই হুমায়ুন কবিরের আইনি লড়াই ও সুচিকিৎসার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাক্ষাৎ শেষে জেলগেটে অপেক্ষমাণ সংবাদকর্মীদের সামনে এক আবেগঘন ও কড়া বক্তব্য পেশ করেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবির কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি এই দেশের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের এক অকুতোভয় সৈনিক। টানা ১৬ বছর তাকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে শুধু ভিন্ন মতাদর্শের কারণে। এটি কোনো বিচার হতে পারে না, এটি চরম জুলুম। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারাবিশ্বের মুসলমানরা যখন খুশির আমেজে পরিবার-পরিজন নিয়ে মিলিত হবে, তখন এই প্রবীণ জননেতা ১৬টি বছর ধরে অন্ধকার সেলে একা ঈদ কাটাচ্ছেন। তার সন্তানরা পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত, তার পরিবার এক শূন্যতার হাহাকারে নিমজ্জিত। একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, হুমায়ুন কবিরের কিছু হলে তার দায়ভার এই সরকারকেই নিতে হবে। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।”
সাক্ষাৎকালে আব্দুস সালাম পিন্টুর সাথে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির একদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন বর্ষীয়ান নেতাকে বিনা বিচারে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বছরের পর বছর আটকে রাখা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।
হুমায়ুন কবিরের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০০৯ সাল থেকে তিনি ঠিকমতো ঈদ বা কোনো সামাজিক উৎসবে সামিল হতে পারেননি। তার শরীর এখন এতটাই দুর্বল যে তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। দলের প্রবীণ এই নেতার মুক্তি এখন সময়ের দাবি। নেতাকর্মীদের আশা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান ঘটিয়ে সরকার তাকে অন্তত শেষ জীবনে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।
সংবাদটির সমাপ্তিতে নেতাকর্মীদের চোখেমুখে ছিল ক্ষোভ আর প্রিয় নেতার মুক্তির আকুল প্রার্থনা। কাশিমপুর কারাগারের লোহার গেট হয়তো সাময়িকভাবে তাকে আটকে রেখেছে, কিন্তু নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে হুমায়ুন কবির ও আব্দুস সালাম পিন্টুর এই সংহতি এক নতুন প্রেরণার জন্ম দিয়েছে।