
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার কৃতি সন্তান কে এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া (ক্বারী) দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার দাবি, বিএনপির রাজনীতি তার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।
তিনি জানান, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবার সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। ১৯৯০ সালের নির্বাচনের সময়ও তিনি আমানউল্লাহ আমানের নির্দেশনায় দলের পক্ষে কাজ করেন।
কে এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া (ক্বারী) বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে দলীয় ইউনিট কমিটিতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। পরে তিনি ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
২০০৪ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কার্যকর নেতৃত্বের অভাব দেখা দিলে তিনি নিজেই এগিয়ে আসেন উল্কা পিন্ডের মত । নিজের জীবন ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে দলের জন্য কাজ করে গেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
তিনি জানান, সে সময় মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব কর্মকাণ্ড তেমন প্রচার পায়নি। ২০০৩ সাল থেকে তিনি মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং, ভূমিদস্যু ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি দৈহিক মানসিক এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানান। তবুও তিনি আদর্শ ও সততা ধরে রেখে বিএনপির একজন নিবেদিত মাঠকর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তার আদর্শিক নেতা স্বাধীনতার মহান বসুক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও তিনি রাজনীতি চালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং অসংখ্যবার আদালতের বারান্দায় যেতে হয়েছে, যার সঠিক হিসাব তার কাছে নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতন আন্দোলন করতে গিয়ে আদাবর মোহাম্মদপুর শেরেবাংলা নগর থানায় ৩৯ টি মামলার শিকার হোন মামলা গুলো অগ্নিসন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রদ্রোহ ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার দাবী— বিএনপির চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ত্যাগী ও তৃণমূলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।
তিনি ইতোমধ্যে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দুইবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে ঢাকা মহানগর কমিটি গঠিত হলে আমিনুল হকের নেতৃত্বে তাকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। তবে কমিটিতে আওয়ামী পন্থী সদস্যদের আধিক্যের অভিযোগ তুলে তিনি সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যান।
এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত রাজনীতিবিদ হিসেবে কে এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া তিব্বত (ক্বারী) আদাবর থানা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছেন। দল-মত নির্বিশেষে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তার যথেষ্ট খ্যাতি যশ এবং সকল স্তরে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তার বক্তব্যে দেশ ও জাতির স্বার্থে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ফুটে ওঠে।
তিনি মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর এলাকাকে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান। পরিশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর এলাকাকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বসবাসযোগ্য সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সার্বিক সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি । সন্ত্রাস দমনে অবশ্যই মানবতাকে বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সন্ত্রাসীদের জন্য মানবতা প্রকাশের কোন অবকাশ নেই।