1. bellal.dabur@gmail.com : Bellal :
  2. rand@rand.com : :
  3. fabriziokuczak1973@int.pl : dante09z931884 :
  4. admin@digontodhara.news : digonto :
  5. digontodhara@gmail.com : digontodhara@gmail.com :
  6. poxomij890@jameagle.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  7. expander@stand.com : :
  8. elniromi1976@ter54-gevision.store : gilbertomoffatt :
  9. lesterki.r.k.3d.f.f.b@gmail.com : janetdominique :
  10. marianosellars@anonmails.de : ryderkalb6299 :
  11. sojibakbor70@gmail.com : sojib akbor : sojib akbor
  12. specialsystemuser@stand.com : :
  13. blairchildress2632@1secmail.net : tresaquiles5429 :
  14. riethorlosam1973@ter54-gevision.store : zaneparamore :
  15. zillurk85@gmail.com : Zillur :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মহানগর উত্তর আদাবর থানা ও ১০০ নং ওয়ার্ডে নির্যাতিত কর্মী ইয়াসিনের বক্তব্য ৩৯ নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের নতুন সূর্য: নববর্ষের শুভেচ্ছায় রাজপথের লড়াকু সৈনিক ইমদাদ পাটোয়ারী ৩৩ নং ওয়ার্ডে বইছে নির্বাচনী হাওয়া: বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছায় গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের ডাক দিলেন আবদুর রহমান কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়ন ও জনগণের সেবায় সারথী হতে চান হাজী দেলোয়ার হোসেন “কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির এক নিবেদিত প্রাণ ও পরীক্ষিত নেতা হাজী মোহাম্মদ জহরুল হক” আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজধানীর কদমতলীতে ভূমি দখলের মহোৎসব: ইদ্রিসের হুমকিতে দিশেহারা শিলার পরিবার ঢাকা উত্তর ৩০ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়বেন মনোয়ার হাসান জীবন, মাদকমুক্ত ও মডেল ওয়ার্ড গড়ার অঙ্গীকার প্রতারণার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা, ৭ বছরের সন্তান নিয়ে অসহায় মা Biznes Selekcja – Poland Play & Claim Kingspin Lead Für Maximise Ihr Wild Casino Bonus Celsiuscasino ◦ deutsches Gebiet Try It Now

বিএনপি নেতা পরিচয়ে মিরপুরে স্বাধীনের ত্রাস: জালিয়াতি ও জমি দখলের পাহাড়

  • প্রকাশ কাল : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ জন দেখেছে
বিএনপি নেতা পরিচয়ে মিরপুরে স্বাধীনের ত্রাস: জালিয়াতি ও জমি দখলের পাহাড়

নিজেকে তিনি পরিচয় দেন ‘বিএনপি স্বাধীন’ বলে। দাবি করেন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি। তবে দলের থানা সভাপতি থেকে শুরু করে নেতৃস্থানীয় সবাই তাকে বলেন ‘দলের কেউ না’। অথচ দলের কেউ না এই স্বাধীনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর মানুষ। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাকে নিয়ে বেকায়দায় আছে স্থানীয় বিএনপিও। কারণ গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন ওরফে বিএনপি স্বাধীনের দুই ছায়াসঙ্গী নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ নেতা ও হত্যা মামলার আসামি রুবেল মাদবর ও নাসির। এই চক্রের বিরুদ্ধে রয়েছে জালিয়াতি ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে মানুষের বাড়িঘর, প্লট দখল থেকে শুরু করে হামলা-ভাঙচুরের বহু অভিযোগ।

ঘটনা-১ (আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে মহাজালিয়াতি): রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনে কাফরুল থানা এলাকায় বিআরটিএর পেছনে ১০ কাঠার একটি বাড়ি ছিল। যার হোল্ডিং নম্বর ৩৭৯। সব ঠিকঠাক থাকলেও সেই হোল্ডিংয়ের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়ির মালিকদের। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে সেটি দখলে নিয়ে বাড়িটির হোল্ডিং নম্বর দেওয়া হয়েছে ৩৭৯/১। এই পুরো জালিয়াতির কাজটি করেছেন গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন নামের বিএনপির সেই কথিত নেতা।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলায় স্বাধীনের হামলার শিকার ভুক্তভোগী কেরু সরদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআরটিএর পেছনে ৩৭৯ নম্বর বাড়িটির মালিক ছিলেন জাহানারা বেগম। সেখানে তিনি একতলা একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরা রাজধানীর রাজাবাজারে তাদের আরেকটি বাড়িতে বসবাস শুরু করলে এই বাড়িটি ফাঁকা পড়ে থাকে। এই সুযোগে আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিকের সাথে মিশে বাড়িটি দখলের পরিকল্পনা করেন স্বাধীন। বাড়ির জাল কাগজপত্র তৈরি করে মানিকের চাচা হারুনুর রশিদকে মালিক সাজিয়ে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মালিক সেজে সেটি দখলে নেন তিনি। জাহানারার ছেলেরা বাধা দিতে এলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। এলাকায় স্বাধীন রটিয়ে দেন জাহানারা বাড়িটি তাদের কাছে বিক্রি করে গেছেন। তত দিনে জাহানারা বেঁচে না থাকায় তার সন্তানরা পড়েন মহা বিপদে। তারা আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর স্বাধীনের বানানো ১০৮৮৫ নম্বর দলিলটি তেজগাঁও রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি দিয়ে জানতে পারেন সেটি ভুয়া ভলিউমেও সেই দলিলের কোনো অস্তিত্ব নেই। ১০৮৮৫ নম্বর দলিলটি বরং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একটি দলিল। বিপদ আঁচ করতে পেরে স্বাধীন সেই বাড়িটি তখন গোপনে বিক্রির উদ্যোগ নেন। মিরপুর এলাকারই বাসিন্দা আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে নৌবাহিনীর কিছুসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে রেজিস্ট্রি বায়না করে হাতিয়ে নেন নগদ ৬৫ লাখ টাকা। জাহানারার সন্তানরা মামলা করায় জমি রেজিস্ট্রি দিতে না পেরে একসময় গা-ঢাকা দেন স্বাধীন। জমি রেজিস্ট্রি কিংবা প্রদেয় টাকা- কোনোটাই না পেয়ে জীবনের সর্বস্ব হারিয়ে সেই থেকে পথে পথে ঘুরছেন আব্দুল আজিজ ও তার সঙ্গীরা। এ বিষয়ে আবদুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন জাল কাগজ বানিয়ে চার বছর আগে ৬৫ লাখ টাকা নিয়েছে। আগে তাকে খুঁজেই পাওয়া যেত না। আর এখন তো বিএনপির নেতা পরিচয়ে মানুষকে উল্টো ফাঁপরের ওপর রাখে। আমরা এখন আরো অসহায়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সস্ত্রীক ভুক্তভোগী জবেদ আলী

তবে বিআরটিএর পেছনের সেই প্লট নিয়ে স্বাধীনের প্রতারণা বন্ধ হয়নি। কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে প্রকাশ্যে এসে এবার একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক লুৎফর রহমানকে লোভের ফাঁদে ফেলেন। বাড়িটি লুৎফরের কাছে বিক্রির কথা বলে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্প দিয়ে হাতিয়ে নেন ৭০ লাখ টাকা। আরো ৩০ লাখ টাকা নিয়ে লুৎফরকে প্লটের দখলও বুঝিয়ে দেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি দিতে না পারায় লুৎফর রহমান টাকা ফেরত চান। তখন স্বাধীন বলেন আরো ১৬ লাখ টাকা দিলে রেজিস্ট্রি অফিসের ভলিউম পাল্টে দিয়ে রেজিস্ট্রি দেবেন। সেই টাকা নিয়ে তেজগাঁও রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডরুমের কর্মচারী সবুজ মিয়ার মাধ্যমে ভলিউম ঘষামাজা করতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে প্রকৃত মালিক জাহানারার সন্তানরা অভিযোগ দিলে এযাত্রাও ব্যর্থ হন স্বাধীন। এরই মধ্যে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পটপরিবর্তন হলে হাতে চাঁদ পেয়ে যান স্বাধীন। আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজেকে জাহির করতে থাকেন বিএনপির নেতা বলে। সুযোগ বুঝে পথের কাঁটা সরাতে স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাককে সঙ্গে নিয়ে সেই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেন কোটি টাকা বায়না দেওয়া লুৎফর রহমানকেও। এ বিষয়ে লুৎফর রহমান বলেন, ‘ভাই, স্বাধীন তো আমারে আমার বায়না করা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে।’

অতি সম্প্রতি স্বাধীন আশিকুর রহমান নামের আরো এক ব্যক্তির কাছ থেকে বাড়িটি বিক্রির কথা বলে এক কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে মিরপুর তহশীল অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলা থাকায় জমিটিতে খাজনা নেওয়া নিষেধ আছে। এর খাজনার ঘরে লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। এ বিষয়ে জাহানারা বেগমের ছেলে আবুল কাশেম বলেন, ‘আমাদের বাড়িটি গোলাম কিবরিয়া ভুয়া কাগজ দিয়ে দখল করেছে। তবে মামলার আদেশ আমাদের পক্ষে এসেছে। আমার বড়ভাইয়ের নাম গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী। একই নাম হওয়ায় স্বাধীন একটা সুযোগ নিয়েছিল। তবে আশা করি, শিগগিরই তার জালিয়াতির অবসান হবে।

ঘটনা-২ (দখলের বাড়িতে বসবাস): রাজধানীর পল্লবীর পলাশনগরে সরেজমিনে গিয়ে স্বাধীনের জালিয়াতির আরো এক প্রমাণ মিলেছে। সেখানে জাল কাগজপত্রে অবৈধ দখলের জমিতে তুলেছেন ছয়তলা বিশাল অট্টালিকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পলাশ নগরের স্বাধীনের বাড়িটির জমির প্রকৃত মালিক কেরু সরদার (৪৫)। বাপ-দাদার ভিটা হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটান তিনি। স্বাধীনের পালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া করে থাকছেন অন্য এলাকায়। তার পরও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন জেনে কয়েক দিন আগে স্বাধীন ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা কেরুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তার বাম চোখটি এখন অকেজো হওয়ার পথে।

স্বাধীনের জালিয়াতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কেরু। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘স্বাধীন আমারে বাপ-দাদার ভিটাছাড়া করছে। আল্লাহয় শেখ হাসিনার বিচার করল, তাও স্বাধীনের বিচারটা এখনো দেখলাম না।

ঘটনা-৩ (বৃদ্ধের সাথে প্রতারণা): রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় অশীতিপর বৃদ্ধ জবেদ আলীর দখলে থাকা মামলাধীন জমিতে তার সাইনবোর্ড ফেলে হঠাৎ নতুন এক সাইনবোর্ড লাগল। সেখানে লেখা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি সূত্রে মালিক গোলাম কিবরিয়া। এ ঘটনার কথা শুনে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন জবেদ আলী (৮৭)। এর-ওর কাছ থেকে জানতে পারেন তার কাছ থেকে ওই জমির আমমোক্তার নিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন। শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। এ ঘটনার পর অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ জবেদ আলী যেন বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন।

ঘোলা হয়ে আসা চোখের পানি মুছতে মুছতে জবেদ আলী বলেন, “এই জমির জন্য ২৫ বছর মামলা লড়ে আজ আমি পথের ফকির। কিছুদিন আগে আমার শালা লিটনউদ্দিন, আরেক দালাল সাংবাদিক আনোয়ার আর স্বাধীন আমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর লিটনের বাসায় গিয়ে দেখি সেখানে অনেক লোকজন। এত লোকজন দেখে আমি কারণ জিজ্ঞেস করতেই স্বাধীন বলে, ‘আমরা আপনাদের বেদখল একটা জমির বিষয়ে চুক্তি করব। আপনি শুধু সাক্ষী হবেন। জমি দখল মুক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে কিনে নেব।’ এখন শুনি সেই স্বাক্ষর নিয়ে স্বাধীন আমার দখলে থাকা মামলাধীন জমির সমস্ত পাওয়ার নিয়ে নিয়েছে। আমি নিজেই তো পাওয়ারের মালিক। তার ওপর মামলা থাকায় এই জমির সকল কার্যক্রম আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ। পাওয়ার থেকে আবার পাওয়ার কিভাবে হয়! এখন স্বাধীন আমার জমিতে তার নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে অন্যত্র বেচে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি রেজিস্ট্রি অফিসে গেলাম না। আমার জমি কিভাবে স্বাধীনের হাতে চলে গেল? এখন শুনি লিটনের বাড়িতে নাকি কমিশন হয়েছে। এই জমি তো আগেই আরেকজনের কাছে রেজিস্ট্রি বায়না দেওয়া। এতকিছু আমি বুঝি না। বিক্রি-নিষিদ্ধ জমি সাবরেজিস্ট্রার কিভাবে কমিশন করে পাওয়ার দিল- এইটা আমি সরকারের কাছে বিচার দিলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জবেদ আলীর স্ত্রী, ছেলে আমিনুল ইসলাম সুমনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও।

তেজগাঁও রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গুলশান জোনের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন এদিনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে মামলা এবং আগের পাওয়ার অব অ্যাটর্নির তথ্য গোপন করে কমিশন করিয়ে নতুন পাওয়ারের দলিল করিয়েছেন গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন। এটি রীতিমতো জালিয়াতি। বৃদ্ধ জবেদ আলী আদালতের আদেশ নিয়ে এলে আমরা দলিলটি বাতিল করবো। আপাতত চলমান মামলাটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দলিলের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।’

ঘটনা-৪ (বিধবার টাকা আত্মসাৎ): সাভার রাজাসন এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নাহার। ষাটোর্ধ্ব এই বিধবার কাছ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে জমির প্রলোভন দেখিয়ে দুই কিস্তিতে ২৮ লাখ করে ৫৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন। টাকা দেওয়ার পর একসময় তিনি বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। জমি তিনি আর পাবেন না। তখন স্বাধীনের কাছে টাকা ফেরত চান। প্রতারক স্বাধীন তখন ভোল পাল্টে জমির বদলে গুলিস্তান সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে তাকে কয়েকটা দোকান বরাদ্দের কথা বলেন। নিজেকে পরিচয় দেন গুলিস্তান সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের সভাপতি বলে। তারপর দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়- সেই দোকান আর বরাদ্দ হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলিস্তান সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে এমন অনেকের কাছ থেকেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্বাধীন।

ঘটনা-৫ (ওয়াকফ সম্পত্তি জালিয়াতি): মিরপুর পল্লবীর কালশী মোড়-সংলগ্ন খেলার মাঠসহ আশপাশের জমির পুরোটাই উচ্চ আদালতে মামলাধীন। আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের করা মামলাটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব জমি বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অথচ প্রতারক স্বাধীন এখান থেকে প্রায় দেড় বিঘা জমি জাল-জালিয়াতি করে আমমোক্তারনামা দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে সটকে পড়েছেন।

ঘটনা-৬ (অবৈধ ইটভাটার মালিক) : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে গোলাম কিবরিয়া স্বাধীনের একটি ইটভাটা আছে। স্বাধীন ব্রিকস নামের ইটভাটাটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলেন জানা গেছে। তবে অবৈধ ইটভাটাটি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালান স্বাধীন। গর্বভরে তিনি নিজেই বলে বেড়ান, ‘আমার কোনো সমস্যা নেই। বছরে ইউএনও অফিসে এক লাখ আর ডিসি অফিসকে দুই লাখ টাকা দিয়ে দেই। তাতেই সব ঠাণ্ডা। এছাড়া স্বাধীনের বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অন্য একজনের স্ত্রীকে ভাগিয়ে এনে পলাশনগরে সংসার পেতেছেন তিনি।

বিএনপির নেতা পরিচয়ে গোলাম কিবরিয়া স্বাধীনের এসব অপকর্মের বিষয়ে কথা হয় পল্লবী থানা বিএনপির আহ্বায়ক কামাল হোসেন খানের সাথে। এদিনকে তিনি বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন দলের কেউ না। সে কোনো কমিটিতেও নেই। তার অপকর্ম-বদনামের দায় দল কেন বহন করবে! সামনে জাতীয় নির্বাচন। আমাদের নেতা ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমিনুল হককে বেকায়দায় ফেলতেই স্বাধীনকে কেউ কেউ বিএনপি বানানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু স্বাধীন নয়, বিএনপির নামে অন্য কেউও যদি কোনো অপকর্ম করার চেষ্টা করে, আমাদের নেতা আমিনুল হক তা কঠোর হাতে দমন করবেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোলাম কিবরিয়া স্বাধীনকে তার দুটি মোবাইল ফোনে (০১৭১২৩৮৬৯৭৮, ০১৬৭০১৫৫৩৭০) বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সুত্র-দৈনিক এদিন

খবরটি শেয়ার করুন

এধরনের আরও খবর
© All rights reserved © 2016 digontodhara.news
Theme Customized By BreakingNews