
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে লেগুনাচালক মো. নূরে আলম ইসলাম ওরফে খাইরুলকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মামলার ১ নম্বর ও প্রধান আসামি মো. হৃদয় হোসেন (২৪), ৩ নম্বর আসামি মো. শাকিল (২৯) এবং ৫ নম্বর আসামি মো. সোহান মুন্সী (২৯)।
র্যাব জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুরে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর খাইরুলকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
তদন্ত ও অভিযানিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার ২-৩ দিন আগে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড স্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানো নিয়ে মূল আসামি হৃদয়ের সঙ্গে খাইরুলের বাকবিতণ্ডা হয়। তখন হৃদয় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এরই জেরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি খাইরুল লেগুনা নিয়ে কুতুবখালী এলাকায় পৌঁছালে হৃদয় ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকা থেকে প্রথমে সোহান মুন্সীকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে মূল আসামি হৃদয় হোসেনকে এবং যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমনে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।