
মোঃ শরিফুল ইসলাম রবিন : পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ কেবল নিজের পরিবারে সীমাবদ্ধ না রেখে, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘উকিল বাড়ি’ পরিবার।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন ৪৩ নং ওয়ার্ডের হেমেন্দ্র দাস রোডে এই মহতী কর্মসূচি পালিত হয়।
উকিল বাড়ির পারিবারিক উদ্যোগে কয়েক শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়। এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ও প্রাণপুরুষ হিসেবে ছিলেন ওই এলাকার সুপরিচিত তিন ভাই— সম্রাট আওরঙ্গ জেব ইবনে শফিক, শাহজাদা সামস ইবনে শফিক এবং শাহানশাহ্ মুহাম্মদ ইবনে শফিক। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক সম্রাট আওরঙ্গ জেব ইবনে শফিক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং একনিষ্ঠ সমাজসেবক। তিনি ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্ষিয়ান, সমাজ কল্যাণ সমিতির সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতা ও সামাজিক সংগঠনেও তার বিচরণ ব্যাপক; তিনি ‘ভোরের আলো সাধারণ মনের ডাক’-এর সাধারণ সম্পাদক এবং চ্যানেল মুসকান, দিগন্তধারা ডট নিউজ ও সাপ্তাহিক দিগন্তধারার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
খাবার বিতরণকালে সম্রাট আওরঙ্গ জেব ইবনে শফিক বলেন, “আমাদের পরিবার সবসময় মানুষের পাশে থাকতে ভালোবাসে। রাজনীতি বা পদ-পদবি বড় কথা নয়, দিনশেষে আমরা মানুষ। পবিত্র ঈদুল ফিতরের খুশি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন আমাদের আশেপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো পেটভরে খেতে পারে। আমরা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য মেনেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকব।”
আয়োজনের অন্যতম বিশেষ ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল মুসকানের সম্পাদক শাহজাদা সামস ইবনে শফিক বলেন, “পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উকিল বাড়ির সন্তান হিসেবে আমরা দায়বদ্ধতা অনুভব করি। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরি, আর ব্যক্তিগতভাবে আমরা সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। একবেলা ভালো খাবার খাইয়ে কারো ভাগ্য বদলে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তাদের মনে যে আনন্দের সৃষ্টি হয়, সেটিই আমাদের সার্থকতা।”
পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য শাহানশাহ্ মুহাম্মদ ইবনে শফিক তার বক্তব্যে বলেন, “বড় ভাইদের অনুপ্রেরণায় আমি সবসময় মানবিক কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি। ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেওয়ার মাঝে যে প্রশান্তি আছে, তা অন্য কোথাও নেই। অসহায় মানুষের হাসিমুখ আমাদের বড় প্রাপ্তি।”
উল্লেখ্য, সূত্রাপুরের এই ‘উকিল বাড়ি’ এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবেই পরোপকারী হিসেবে পরিচিত। বংশপরম্পরায় এই পরিবারটি এলাকার যেকোনো দুর্যোগে এবং উৎসবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। এবারের আয়োজনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। একবেলা তৃপ্তিসহকারে আহার করতে পেরে আগত অসহায় মানুষেরা এই পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন বিশাল, চঞ্চল ও সাইফুল। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুশৃঙ্খলভাবে খাবার বিতরণ সম্পন্ন হয়। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, সমাজের সামর্থ্যবান পরিবারগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তবে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ছড়িয়ে পড়বে। সম্রাট, সামস ও শাহানশাহ্— এই তিন ভাইয়ের এমন মহতী উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।